
প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র ফিজিতে নিখোঁজ কক্সবাজারের যুবক পার্বন বড়ুয়ার সন্ধানে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ বিষয়ে অস্ট্রেলিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার ও ফার্স্ট সেক্রেটারিকে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) পার্বনের মা শেলী প্রভা বড়ুয়ার করা এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন। আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার জ্যোর্তিময় বড়ুয়া।
রিট আবেদনে বলা হয়, ২৩ বছর বয়সী পার্বন বড়ুয়ার স্বপ্ন ছিল দক্ষ শেফ হয়ে ক্যারিয়ার গড়া। সেই স্বপ্ন পূরণে ধারদেনা করে ২০২৪ সালের ২১ আগস্ট প্রায় পাঁচ লাখ টাকা খরচ করে ফিজিতে যান তিনি। পরে পরিচিত মিন্টু সাংমার সহযোগিতায় টাপ্পো গ্রুপের নিউইয়র্ক পিজ্জা কিচেনে শেফ হিসেবে যোগ দেন।
পার্বন এর আগে কক্সবাজারের সি-পার্ল বিচ রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা হোটেলে কাজ করতেন। ফিজিতে যাওয়ার পর তিনি ভারতীয় নাগরিক প্রাভিনের বাসায় সাবলেট থাকতেন। সেখানে কর্মরত সুরেন্দ্র, প্রাভিন ও ম্যানেজার মিন্টুর সঙ্গে তার সম্পর্কের অবনতি ঘটে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
২০২৫ সালের ৬ জুলাই পার্বন তার মাকে ফোন করে জানান, তার পাসপোর্ট কেড়ে নেওয়া হয়েছে এবং তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। যেকোনো সময় তাকে হত্যা করা হতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। ওই ফোনালাপের পর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। পরদিন পার্বনের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে মিন্টু জানান, তিনি হোটেল থেকে পালিয়ে গেছেন।
পার্বনের মামা যতিসেন বড়ুয়া এ ঘটনায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ দেন। তবে কোনো প্রতিকার না পেয়ে পার্বনের মা হাইকোর্টে রিট করেন।
পার্বনের আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোর্তিময় বড়ুয়া বলেন, ফিজিতে বাংলাদেশের কোনো দূতাবাস নেই। অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরায় অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন দেশটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম পরিচালনা করে। এ কারণে হাইকমিশনার ও ফার্স্ট সেক্রেটারিকে পার্বন বড়ুয়া কোথায় আছেন, তা তদন্ত করে ৩০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।